জুমার খুতবাঃঅল্পে তুষ্টিতেই ঈমানের স্বাদ।

জুমার খুতবাঃঅল্পে তুষ্টিতেই ঈমানের স্বাদ। كل نفس ذائقه الموت প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে। মৃত্যু যেমন নিশ্চিত। মৃত্যুর সময় ও নির্দিষ্ট। পৃথিবীর কোন ক্ষমতাশালী মৃত্যু থেকে পলায়ন করতে পারেনি। বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি যে সব সময় মৃত্যুর কথা স্মরণ করে মৃত্যুর প্রস্তুতি নেয়। الذي خلق الموت والحياه আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন এবং জীবনকে সৃষ্টি করেছেন। আমরা জানি মানুষের হায়াত বা জীবন শেষ হলে পরে মৃত্যু হয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বললেন মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন এবং জীবন সৃষ্টি করেছেন। তারমানে মৃত্যুর কথা আগে বলেছেন। আমরা এখন যারা পৃথিবীতে বেঁচে আছি তারা আজকে থেকে 100 বছর আগে ছিলাম না। আবার কিছুদিন পর আমরা থাকবো না। আল্লাহতালা এই কথাটি কোরানুল কারিমের সূরা আত্তাহুরের এক নম্বর আয়াতের মধ্যে বলছেন, هل اتى على الانسان حين من الدهر لم يكن شيئا مذكورا আল্লাহতালা প্রশ্ন করেছেন, মহাকালের মধ্যে এমন একটি সময় ছিল যখন তোমরা উল্লেখ করার মতো কোনো বিষয় ছিল না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অল্প সময়ের জন্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এতেই আমাদের অহংকারে পা মাটিতে পড়ে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন অমান্য মিশ্র শুক্র বিন্দু থেকে। انا خلقنا الانسان من نطفه امشاج نبتليه فجعلناه سميعا بصير আল্লাহ বলেন নিশ্চয়ই মানুষকে আমি সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে। কেন সৃষ্টি করেছি, এজন্যই সৃষ্টি করেছি যেন আমি পরীক্ষা করতে পারি। আমি মানুষকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টি শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছি। দুটি কান এবং দুটি চোখ কত বড় নেয়ামত যাদের নাই তারাই কেবল বোঝে। আপনি দুটি চক্ষু একটু বন্ধ করে দেখুন এই পৃথিবীর সকল কিছুই নাই হয়ে যায়। অন্ধকার হয়ে যায়। আপনার ঘর আপনার বাড়ি এবং পৃথিবীর রাস্তাঘাট দালানকোঠা শস্য শ্যামল পরিবেশ কিছুই দেখা যায় না। এমনকি আপনি নিজেকেও দেখতে পারবেন। এই পৃথিবীটা কেমন এই পৃথিবীর মানুষ গুলো কেমন সুন্দর্য কেমন কিছুই দেখা সম্ভব। এত দামি দুটো চক্ষু আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে একটি উন্নত মস্তিষ্ক বা মাথার ব্রেন দান করেছেন। এত সুন্দর একটি চেহারা দান করেছেন। শরীরের প্রত্যেকটি পার্টস কত দামি। ফুসফুস বলেন, হার্ট বলেন, কিডনি বলেন প্রত্যেকটা কত দামি অঙ্গ। ২৪ ঘন্টার প্রত্যেক মিনিট প্রত্যেক সেকেন্ডে এই অঙ্গগুলো অনবরত চলছে। আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন তখনো চলছে। আপনি যখন আল্লাহর হুকুম অবাধ্য হচ্ছেন তখনো চলছে। এত নেয়ামত দেওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা যখন দেখেন তার বান্দা তার সাথে নাফরমানি করে তখন আল্লাহ তা'আলা আশ্চর্যবোধ করেন। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ডেকে বলেন, يا ايها الانسان ما غرك بربك الكريم হে মানুষ তোমাদের কি হয়ে গেল তোমরা তোমাদের মহান প্রতিপালককে ভুলে গেলে। الذي خلقك فسواك فعدلك যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা তোমাকে এত সু সমন্বিতভাবে সৃষ্টি করলেন। في اي سوره ما شاء ركبك তোমার চেহারাটা কে রাব্বুল আলামিন তার ইচ্ছামত তৈরি করলেন। সূরা বাকারার ২৮ নম্বর আয়াতের মধ্যে আল্লাহতালা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, كيف تكفرون بالله কেমন করে তোমরা আল্লাহ তাআলার সাথে কুফরি করতে পারো, আল্লাহকে অবিশ্বাস করতে পারো!! وكنتم امواتا فاحياكم ثم انيتكم ثم يحييكم ثم اليه ترجعون তোমরা তো মৃত ছেলের অতঃপর তোমাদের জীবন দান করলাম। অতঃপর তোমরা আবার মৃত্যুবরণ করবে। তারপর তোমাদেরকে আবার জীবিত করা হবে। হাশরের মাঠে তোমাদেরকে তোলা হবে। আমাদেরই জীবনটা চার ভাগে বিভক্ত। দুনিয়ায় আসার আগে একটি জীবন যখন আমরা আমাদের পিতা-মাতার দেহে শুক্রাণু ডিম্বানু আকারে ছিলাম। তখন আমরা মৃত ছিলাম। এরপর পৃথিবীতে এখন আমরা জীবিত আছি। এরপর হচ্ছে আমাদের কবরের জীবন। এরপর হচ্ছে আমাদের হাশরের মাঠ এবং এর বিচার এবং সর্বশেষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে থাকবো। অর্থাৎ দুনিয়ার এই জীবনটা আমাদের পুরো জীবনের চারটি অংশের একটি ভাগ। এবং সেটি দ্বিতীয় ভাগ। এবং খুবই সংক্ষিপ্ত সময়। আমাদের জীবনের শেষ ভাগ সবচেয়ে লম্বা অনন্ত অসীম সময়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এই হায়াত এই জীবন দান করেছেন এবং একটা পর্যায়ে আমরা মৃত্যুবরণ করবো। এই জীবনের উদ্দেশ্য কী? অনেকের জীবন যাত্রা দেখলে মনে হয় যেন এই দুনিয়ায় কামাই উপার্জন করা চাকরি বাকরি করা টাকা পয়সা জমা করা জমি জমার মালিক হওয়া ভোগ বিলাস করা এগুলোই মনে হয় জীবনের উদ্দেশ্য। তাই যদি না হয় দুনিয়া উপার্জনে মানুষ এত ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে বিচ্ছিরিভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার সময় নেই কোরআন তেলাওয়াতের সময় নেই আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়ার সময় নেই পৃথিবীর আনাচে-কানাচে মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছে সেই বিষয়ে কোন ভাবনা নেই পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই। অর্থাৎ দুনিয়ার খাওয়া-দাওয়া ভোগ বিলাসকেই সে দুনিয়ার উদ্দেশ্য বানিয়ে‌ নিয়েছে। এই জীবনের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। আল্লাহতালা আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য অনেক লোভনীয় বস্তু সৃষ্টি করেছেন। زين للناس حب الشهوات পুরুষ তো পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহতালা নারীকে সৃষ্টি করেছেন নারীকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহতালা পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন ধন সম্পদ গাড়ি-বাড়ি এই সকল কিছুই পরীক্ষার বস্তু। দুনিয়ার সামান্য ক্ষমতা, ক্ষমতার চেয়ার, পদ পদবী, নেতৃত্ব এসবই লোভনীয় উপস্থা এবং পরীক্ষার বস্তু। সম্পদের লোভ, ক্ষমতার মোহ, দুনিয়ার অশ্লীলতা চাকচিক্য, যাকে পেয়ে বসবে সেই এই পরীক্ষায় ফেল করবে। সুতরাং পৃথিবীর এই লোভনীয় বস্তুর লোভে পড়া যাবে না। আল্লাহতালা যাকে যতটুকু দান করেন ততটুকু উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অল্প সম্পদের মধ্যে, অল্প জিনিস এর মধ্যে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এটা কি বলে অল্পে তুষ্টি। আর এই অল্পে তুষ্টির মধ্যেই ঈমানের স্বাদ নিহিত। আজকের আলোচনার বিষয় আমার এটাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনুল কারীমের সূরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতে এটি শিক্ষা দিয়েছেন, ربنا اتنا في الدنيا حسنه وفي الاخره حسنه وقنا عذابا النار হে আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতের কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। মুফাসসিরিনি একরাম এখানে দুনিয়ার কল্যাণ বলতে বুঝিয়েছেন, ১. অল্প সম্পদে বা রিযিক্বে পরিতুষ্ট থাকা ২. পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা ৩. সৎ সন্তান ইত্যাদি। অল্প সম্পদে অল্প টাকা পয়সায় যদি আপনার আপনার পরিবারের লোকজনদের সন্তুষ্টি না থাকে তবে আপনি কোটি টাকা উপার্জন করেও সুখি হতে পারবেন না। সুনাম আত তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ কিতাবে আল্লাহর হাবিব মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পরিবার-পরিজনহ সকাল হয় সুস্থ শরীরে দিন কাটায় সারাদিন খাওয়ার মত খোরাকি থাকে ওই ব্যক্তি এত ধনী যে তাকে জন্য গোটা দুনিয়াটাই দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহাগ্রন্থ কোরআনুল কারীমে মানুষকে সুখে থাকার শান্তিতে থাকার উপায় বলে দিয়েছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ولا تمدن عينيك الى ما متعنا به ازواجا منهم তুমি তোমার চোখ দুটোকে তাদের দিকে প্রসারিত করো না যারা তোমাদের তুলনায় বেশি ধন-সম্পদ ওয়ালা। ولا تحزن عليهم তাদের ধন-সম্পদ দেখে তুমি তোমার মনে কষ্ট পেয়ো না। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহ, বলেছেন ইসলামের বুনিয়াদ দুইটি জিনিসের উপর ভিত্তিশীল। জিকির এবং শুকর। আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা। সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহ যে অবস্থায় রাখুক না কেন আল্লাহতালার শুকরিয়া আদায় করা। কারণ আল্লাহ তাবারুক তাআলা বলছেন, اذكروني اذكركم واشكروا لي ولا تكفرون তোমরা আমাকে স্মরণ করো আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব । আমার কৃতজ্ঞতা আদায় কর । নাফরমানি করিও না। দুনিয়ার ধন-সম্পদের লোভ পরিত্যাগ করে কিভাবে আল্লাহতালার প্রিয় বান্দা হওয়া যায় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই শিক্ষা আমাদেরকে দিয়ে গিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিন্দেগীর দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ দুনিয়ার সামান্য লোভ লালসা কিভাবে ত্যাগ করতে হয় তার উজ্জ্বল নিদর্শন। একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন। মুরাদি আল্লাহ তা'আলা আনহু বলেন আমি সেখানে বসে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাদর খানিকে তার শরীরের উপর দিকে টেনে নিলেন। অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গায়ে একটি মাত্র কাপড় ছিল। ওটাই লুঙ্গি আবার ওটাই চাদর। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর লক্ষ্য করলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই খেজুর পাতার তৈরি চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন সেই চাটায়ের দাগগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মোবারক দেহের উপর বসে গিয়েছিল। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন আমি বসে বসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুরো ঘরটির উপর দৃষ্টিপাত করলাম। ঘরের এক কোণে সামান্য কিছু যব, বাবলা জাতীয় কিছু গাছের পাতা, এবং একটি পশুর চামড়া ঝুলানো ছিল। যা পাকানো ছিল না। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এ দৃশ্যগুলো দেখে চোখ দিয়ে টলটল করে পানি ছেড়ে দিলেন। বসে বসে কান্না করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওমরের চোখে পানি দেখতে পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ওমর কাঁদছো কেন। এবার ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কান্না জড়িত কন্ঠে উত্তর দিচ্ছেন হে আল্লাহ রাসুল আমি কাঁদবো না কেন। আপনি তো বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, আপনিতো শ্রেষ্ঠ নবী, অথচ আপনি খেজুর পাতার একটি চাটাইর উপর শুয়ে আছেন, তাও পরনে একটিমাত্র কাপড়। আপনার ঘরে তো কিছুই নেই। অথচ রুমের বাদশা পারস্যের সম্রাট তারা কত বিলাস বসনে , আরাম আয়েশে শেষ জীবন যাপন করেন। ফলমূলের অভাব নেই এবং ঝর্ণা বেষ্টিত হয়ে থাকেন। এবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন । ওমর। আমাদের জন্য আখেরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া। তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন হে আল্লাহর নবী আমি এতেই পরিতুষ্ট। সহি বুখারীর ৬৪১৬ নম্বর হাদিসঃ ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ছেলে, আম্মাজান হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার ভাই، রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদরের শ্যালক আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু । তিনি বলছেন। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, كن في الدنيا كانك غريب او عابر السبيل তুমি এমন ভাবে জীবন যাপন করো যেন তুমি একজন অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রবাসী অথবা একজন পথিক। কেউ যদি বিদেশে যায় সেখানে চাকচিক্যময় জীবন যাপন করলেও সেখানে সে স্থায়ী বাসিন্দা নয়। প্রবাসী সব সময় কল্পনা করে সে তার বাড়িতে আসবে তার বাড়িটা যেমনই হোক ওইটাই তার বাপ দাদার ভিটা। ঠিক তেমনি আমাদের বাড়ি হচ্ছে জান্নাত। আমাদের পিতা আদম আলাই সাল্লাম জান্নাত থেকে দুনিয়াতে এসেছিলেন। আমরা আবার আমাদের বাড়িতেই যেতে চাই। আর আল্লাহর নবী যে বললেন তুমি এমন ভাবে দুনিয়ায় থাকবে যেন তুমি পথিক মুসাফির। মুসাফিরের যেমন তার দু একটা ব্যাগ পোটলা ছাড়া আর কোন সহায় সম্বল থাকে না ঠিক তেমন জীবন জিন্দেগী যাপন করো। পথিক যেমন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাছের নিচে বিশ্রাম নেয়। গাছের নিচে যত আর আমি লাগুক না কেন সেখানে সে অল্প সময়ই থাকে। ঠিক তেমনি আমাদের দুনিয়ার জীবন। যে আল্লাহর নবী উপদেশ দিলেন নসিহত করলেন, অপরিচিত এবং মুসাফিরের মত জিন্দেগি যাপন করার জন্য। এটা শুধু কোন কথার কথা নয়। শুধু বলার জন্য নয়। বরং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম গণ তাদের জীবনে এর বাস্তব প্রয়োগ করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুদের জীবনী অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ মোতাবেক মুসাফিরের জীবন যাপন করেছেন। উদাহরণস্বরুপ আল্লাহর নবীর একজন সাহাবী সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ঘটনাটা বলি। অত্যন্ত দুনিয়াবি বিমুখ, আল্লাহ ভীরু ব্যক্তি ছিলেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর জামানায় পারস্যের গভর্নর ছিলেন। তিনি রাষ্ট্র থেকে কোন বেতন ভাতা নিতেন না। খেজুর পাতা দিয়ে ঝুড়ি বানিয়ে বিক্রি করে তা দিয়ে জীবন ধারণ করতেন। বিক্রয় মূল্য থেকে যতটুকু তার জীবন ধারণের জন্য লাগতো তা রেখে বাকিটা দান করে দিতেন। তিনি বলতেন আমার দুনিয়ার জীবন হচ্ছে পথিকের মত, পথিক যেমন কাছের ছায়ার নিচে সামান্য সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার পথ চলতে থাকে। সালমান ফার্সি রাদি আল্লাহ তা'আলা আনহু যখন মৃত্যুশয্যায় তখন তিনি অত্যন্ত ভীত হয়ে যান বিচলিত ও চিন্তিত হয়ে যান। অস্থির ও পেরেশান হয়ে যান। লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল আপনি এতটা চিন্তিত এবং পেরেশান কেন হচ্ছেন। আপনার জীবন তো কল্যাণের পথেই অতিবাহিত হয়েছে। আপনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অসংখ্য জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। অনেক জিহাদে অংশগ্রহণ করে জয়ী হয়েছেন। তারপরও আপনার কিসের এত চিন্তা, পেরেশানি। তখন সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মৃত্যুশয্যায় উত্তর দেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উপদেশ দিয়েছেন আমি যেন মুসাফিরের মত থাকি। অথচ আমার ঘরে মুসাফিরের চাইতেও বেশি সম্পদ। তার ঘরে কতটুকু সম্পদ ছিল জানলে আপনি অবাক হবেন, তার ঘরে ছিল একটি লাঠি, একটি থালা ,একটি পানির পাত্র, একটি পুরনো কম্বল। সম্পূর্ণ খুতবার সারমর্ম হলঃ পর্যাপ্ত খাবার নেই। সন্তুষ্ট থাকুন। পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সন্তুষ্ট থাকুন। পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। সন্তুষ্ট থাকুন। যা আপনার নেই। তার লোঢ পরিত্যাগ করুন। তাকদীর বা ভাগ্যে বিশ্বাস করুন। হারাম বর্জন করুন হালাল উপার্জন করুন। কারো প্রতি অভিযোগ করবেন না। কারো প্রতি রাগ রাখবেন না। সকলকে ক্ষমা করে দিন অন্তরকে সন্তুষ্টি দিয়ে ভরে রাখুন। আল্লাহতালা আমাদের অন্তরকে অল্পে তুষ্টির গুনাগুন দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিন। প্রকৃতি ঈমানের স্বাদ দিয়ে আমাদের এবাদত গুলোকে এখলাস পূর্ণ করে দিন।

No comments

Powered by Blogger.